২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

ইউপি নির্বাচন- তৃতীয় ধাপের ভোট আজ

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৩ ২০১৬, ০৩:৫৬ | 631 বার পঠিত

union_7 নয়া আলো-

সহিংসতার আশঙ্কার মধ্য দিয়ে তৃতীয় ধাপে দেশের ৬১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। দেশের ৪৮ জেলার ৬১৪ ইউপির প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণা শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার ভোরে। প্রথম দুই ধাপের মতো এ ধাপেও ভোটগ্রহণের আগে থেকেই উত্তপ্ত ছিল নির্বাচনী পরিবেশ। প্রতিপক্ষের উপর হামলা, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, প্রচারে বাধা দেয়াসহ সহিংস ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে চলছে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব। কোথাও কোথাও প্রার্থী ও ভোটারদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করায় শেষ মুহূর্তে ইসিতে জমা হয়েছে অভিযোগের স্তূপ। এদিকে আগের দু’ধাপের চেয়ে শনিবারের তৃতীয় ধাপে গোলযোগ কম হওয়ার আশা দেখছে নির্বাচন কমিশন। বাড়তি নিরাপত্তা না থাকলেও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ওপর ভরসা করেই ভোটারদের অভয় দিয়ে যাচ্ছে ইসি। নির্বাচন কমিশন বলছে, বাড়তি আয়োজন না করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্ত অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের বাড়াবাড়ি বন্ধ করতেও নির্দেশ দেয় ইসি। দলীয় প্রতীকের এ নির্বাচনে প্রায় ২০টির মতো দল থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা রোধে ইসিকে কঠোর হতে বলছে। বিএনপি অভিযোগ করছে, ইসি পক্ষপাতিত্ব করছে। তাদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধ হচ্ছে না। এমনকি এ ধাপের ৮১টি ইউপিতে প্রার্থী দিতে পারেনি দলটি। এদিকে ভোটের আগেই ২৫ ইউপিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এই ধাপসহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বিজয়ী চেয়ারম্যান সংখ্যা ১৪৬জন। আর প্রথম ধাপে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৩৮৫টি ইউপিতে প্রার্থীহীন রয়েছে বিএনপি এক্ষেত্রে কমিশনে অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। এমন সমালোচনার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় বারের মতো বৈঠকও করে নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে প্রথম দুই ধাপের চিত্র তুলে ধরে হতাশা প্রকাশ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ। যদিও বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন। তৃতীয় ধাপসহ সামনের ধাপে শক্ত অবস্থানে থাকতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়ার কথা জানান তিনি। তবে সহিংসতার ক্ষেত্রে সিইসির বক্তব্য হলো, নিজেদের মধ্যে মারামারি করলে এর দায় ইসি নিবে না। গত ১১ই ফেব্রুয়ারি ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত নির্বাচনী সংঘাত-সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক লোক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজারের মতো। নির্বাচন কমিশন বলছে, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর গোলাগুলিতে প্রাণহানি ছাড়া অন্যদের সহিংসতার বিষয়ে আদালতে নিষ্পত্তি হবে। তৃতীয় ধাপের নির্বাচন নিয়ে কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, উত্তরোত্তর নির্বাচনী পরিবেশ ভালো হচ্ছে। আগের অভিজ্ঞতা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের। তবে এবার আইনশৃঙ্খলায় বাড়তি কোনো ব্যবস্থাও থাকছে না। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব শামসুল আলম জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে। প্রতি কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী গতকাল বিকালের মধ্যে পৌঁছে গেছে। পার্বত্য এলাকায় হেলিকপ্টারে পৌঁছানো হবে নির্বাচনী মালামাল। তৃতীয় ধাপের ভোটের জন্য ৬৮৫টি ইউপির তালিকা করেছিল নির্বাচন কমিশন। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের ৫৩ ইউপির নির্বাচন এ ধাপ থেকে বাদ দিয়ে ৬ষ্ঠ ধাপে নেয়া হয়। নানা জটিলতায় আরও ১৮টি ইউপির ভোট স্থগিত হয়েছে।
প্রার্থী, দল ও ভোটার: তৃতীয় ধাপের ভোটে মোট ২ হাজার ৬৭২ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে মোট ১৪টি রাজনৈতিক দল ১ হাজার ৫৪৩ জন প্রার্থী দিয়েছে। বাকি প্রার্থীরা স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে এদের মধ্যে বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২০ জন, বিএনপি ৫৩৯ জন, জাতীয় পার্টি ১৬৭ জন, জাসদ ২৬ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ১২ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৯২ জন, জেপি ৩ জন, খেলাফত মজলিস ২ জন, বিকল্পধারা ৩ জন, সিপিবি ৫ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ১০ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৩ জন, বাসদ ১ জন ও অন্যান্য ৪ জন। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য ৬ হাজার ২৯৮ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২০ হাজার ৯৪৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিমধ্যে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়াম্যান পদে আওয়ামী লীগের ২৫ জন নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য ৭৯ জন ও সাধারণ সদস্য ১৭৪ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ধাপে মোট ভোটার ১ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৫৫ জন।
মাঠে টহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: এ ধাপের নির্বাচনে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি ভোট কেন্দ্রে লক্ষাধিক ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ও দেড় লাখের মতো আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। একইসঙ্গে নির্বাচনী অনিয়ম ঠেকাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও অপরাধ তদারকিতে মাঠে নেমেছেন। ইসি কর্মকর্তারা জানান পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে প্রতি ইউনিয়নে একটি করে মোবাইল ফোর্স ও প্রতি তিন ইউপির জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স রাখা হয়েছে। অন্যদিকে প্রতি উপজেলায় ২টি করে র‌্যাবের মোবাইল টিম ও ১টি স্ট্রাইকিং টিম এবং প্রতি উপজেলায় ২ প্লাটুন বিজিবি মোবাইল ও ১ প্লাটুন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকছে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4152405আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 32এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET