২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

আলোর আয়ু কতো?

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : মে ২৩ ২০১৬, ০০:০৭ | 686 বার পঠিত

তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক- আলোর কণা, মানে ফোটনের জীবনকাল কত? এ ব্যাপারে আমরা খুব বেশি মাথা ঘামাই না। আলোর কণার ভরই বা কত? সে কথাও ভাবি না কখনো।

একটা কথা কমবেশি আমরা সবাই জানি, ফোটনরে স্থির বা নিশ্চল ভর শূন্য। আর শূন্য বলইে আইনস্টাইনে ভর-শক্তি সমীকরণ সত্য।

গতিশীল আলোর ভর একেবারে শূন্য নয়। তবে একথাটা অনেকেই মানতে চান না। কিন্তু গতিশীল আলোর ভর শূন্য নয় বলেই, আইনস্টাইনের ফটোতড়িৎ ক্রিয়া সত্য। গতিশীল ফোটনের ভর না থাকলে এর ভরবেগ থাকত না। আর ভরবেগ আছে বলেই ফটো তড়িৎক্রিয়া প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছিল। বলাই বাহুল্য আইনস্টাইন নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন এই ফটোতড়িৎ ক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য।

ভর শূন্য নয় বলেই আলোর কণা ধর্ম মেনে নেয়া হয়। ভর আছে বলে, আলোর কণা ফোটনকে বস্তু হিসেবেও ভাবা যায়। অন্যদিকে কোয়ান্টাম মেকানিক্স বলে, ফোটন একই সাথে কণা ও তরঙ্গের মতো আচরণ করে। তাই ফোটনকে শক্তি বললেও ভুল হবে না।

আইস্টাইনের থিয়োরি অব রিলেটেভিটি বলে, কোনো বস্তুর বেগ আলোর বেগের চেয়ে বেশি হতে পারে না। আলোর বেগ অপরর্বতনীয়। কখনো কম বা বেশি হবে না।

কিন্তু ইদানীংকালে জার্মানির একদল পদার্থবিদ বলছেন, আলোর স্থির ভর একেবারে শূন্য নয়। কোনো কোনো ফোটনের কিছুটা স্থির ভর আছে। তাই যদি হয়, তাহলে সেইসব ফোটনের বেগ কখনো আলোর বেগের সমান হতে পারে না। হলে থিয়োরি অব রিলেটিভিটি অনুযায়ী ওইসব ফোটনের ভর অসীম হবে।

এই সমস্যা এড়াতে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সামান্য স্থিরভরযুক্ত এসব ফোটনের বেগ আলোর ধ্রুব অবস্থার বেগের তুলনায় কিছুটা কম হবে। বিজ্ঞানীদের মতে ওইসব ফোটন কণার স্থির ভর ১০^৫৪ কেজি, অর্থাৎ ১ এর পর ৫৪টি শূন্য বসালে যতো হয় ততো কেজি।

এতোদিন মনে করা হতো, ফোটনের জীবনকাল অসীম। কিন্তু যেসব ফোটনের কিছুটা স্থির ভর আছে, তাদের একটা নির্দিষ্ট জীবনকালও থাকবে। বিজ্ঞানীরা এসব ফোটনের জীবনকাল নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছেন বলেও দাবি করছেন।

গতিশীল ফোটনের নিজস্ব প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে এর জীবনকাল ৩ বছর। কিন্তু আমাদের মহাবিশ্বের প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে আইনস্টাইনের থিয়োরি অব রিলেটিভিটি অনুযায়ী সেই জীবনকাল দাঁড়াবে ১০^১৮ বিলিয়ন বছরে!

সামন্য স্থির ভরযুক্ত এসব ফোটন আরো কিছু আলোক কণা বিকিরণ করতে পারে। কোন্ কোন্ কণা? বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেগুলো হতে পারে নিউট্রিনো ও এন্টি-নিউট্রিনোর জোড়া। আবার এমন কিছু কণা হতে পারে, যেগুলো আমাদের আদর্শ কণা-বিজ্ঞানের বাইরের কোনো অজানা কণা।

বিগ ব্যাং তত্ত্বানুযায়ী, ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে আমাদের মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে। অনেক মহাজাগতিক বিকিরণের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যেগুলোর বয়স মহাবিশ্বের বয়সের কাছাকাছি। জার্মানির প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের গবেষক জুলিয়ান হিক -এর মতে, সবচেয়ে পুরনো যেসব আলোর কণা আমরা দেখতে পেয়েছি, সেগুলোর কিছু কিছু হয়তো সামান্য স্থির ভরের। তাদের জীবনকাল সীমিত হতে পারে। সেগুলো বড়জোর মহাবিশ্বের কাছাকাছি বয়সের হতে পারে। কিন্তু তাদের জীবনকালের (১০^১৮ বছর) তুলনায় মহাবিশ্বের বয়স তো কিছুই নয়!

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4149827আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 10এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET