১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

আগৈলঝাড়ায় যে মেয়েটি বঙ্গবন্ধুর সেই ছবি এঁকেছিল

হুমায়ন আরাফাত, আশুলিয়া করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : জুলাই ২৬ ২০১৭, ২২:৪০ | 633 বার পঠিত

বরিশাল প্রতিনিধিঃ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এঁকে অজানা ভয় কাজ করছে স্কুল ছাত্রী অদ্রিজা করের (১১) মাঝে। সে আগৈলঝাড়া সদর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। অদ্রিজা উপজেলা সদরের শান্তিরঞ্জন মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী পরিমল কর এবং আগৈলঝাড়া শ্রীমতি মাতৃমঙ্গল বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পদ্মাবতী হালদারের মেয়ে। সে ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকে। ছবি এঁকে বিভিন্ন সময় পুরস্কারও পেয়েছে অদ্রিজা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি আঁকতে তার ভালো লাগে। এজন্য ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও শিশু দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সে বঙ্গবন্ধুর ছবি এঁকেছিল। ছবি আঁকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করায় পুরস্কার পেয়েছিল সে। পুরস্কার পেয়ে দারুণ খুশি হয়েছিল অদ্রিজা। অভিভাবকরাও মেয়ের পুরস্কার প্রাপ্তিতে আনন্দে ভেসেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ওই ছবিটি গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আমন্ত্রণ পত্রে ব্যবহার করেন সাবেক ইউএনও গাজী তারিক সালমন। তবে তার আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবিটি এখন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু অদ্রিজা করের মাঝে এখন ভয় কাজ করছে। তবে কিসের জন্য ভীত সে, বিষয়টি ১১ বছর বয়সী অদ্রিজা ভালোভাবে বুঝাতে পারছে না। অদ্রিজা কর জানায়, পুরস্কার দেয়া স্যারকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর বাবা ফেসবুক থেকে আমার আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবিটি সরিয়ে ফেলেছে। কারও সঙ্গে কথাও বলতে দিচ্ছে না বাবা-মা। আর অদ্রিজার পরিবার পড়েছে বিব্রতকর অবস্থায়। অদ্রিজার বাবা পরিমল কর জানান, এ ঘটনার পর আমরাও বিব্রতরকর অবস্থায় আছি। অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমাদের। কোনো সমস্যা আছে কিনা জানতে আত্মীয়-স্বজনও ফোন দিচ্ছে। এর সঙ্গে এলাকাবাসী থেকে শুরু করে সংবাদকর্মী সবাই আসছেন। এঘটনায় শিশুদের মন থেকে বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে ফেলার অপচেষ্টার প্রকাশ। বঙ্গবন্ধুর ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে জাতীয় পতাকার ব্যবহার নিঁখুত ভাবে এঁকেছে অদ্রিজা কর। একটি শিশু মনের সৃজনশীলতার দারুন প্রকাশ ঘটিয়েছে এখানে। বঙ্গবন্ধুকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য যার পুরস্কৃত হওয়ার কথা, আর তার নামে হয় বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতর মামলা। আঁকা ছবি দিয়ে আমন্ত্রণ পত্র তৈরির এই আইডিয়া ইউএনও গাজী তারিক সালমন হয়তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেই শিখেছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকদিন ধরে নববর্ষ, ঈদ বা এ ধরনের উৎসবে আমন্ত্রণ পত্র বা শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করেন স্পেশাল শিশুদের আঁকা ছবি দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে দেশের সেরা শিল্পীদের আঁকা ছবি দিয়ে কার্ড তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি শিশুদের উৎসাহ দেয়ার জন্যই তাদের ছবি ব্যবহার করতেন। প্রতিটি কার্ডে ক্ষুদে শিশু শিল্পীদের নাম উল্লেখ করা থাকে। প্রধানমন্ত্রীর এই ছোট্ট আয়োজন যে সেই বিশেষ শিশুদের জন্য কতটা অনুপ্রেরনার তা অনুধাবনের ক্ষমতা অনেকেরই নেই। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগটিই ছোট পরিসরে অনুসরন করেছেন সাবেক ইউএনও গাজী তারিক সালমন। বঙ্গবন্ধুকে মানুষের হৃদয়ে পৌছে দেয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, শিশুদের কাছে নিয়ে যাওয়া। তাহলেই বঙ্গবন্ধু যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন। আর এটা করার জন্য শিশুদের বঙ্গবন্ধু পাঠ বাড়াতে হবে, তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনাতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনাতে হবে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকাকে উৎসাহিত করতে হবে। কিন্তু ভালো কাজ করতে গিয়ে উল্টো বিপদে পরলেন সাবেক ইউএনও গাজী তারিক সালমন। স্কুল ছাত্রী অদ্রিজা করের আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে আমন্ত্রণ পত্র বানানোর অপরাধে যদি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কারাগারে যেতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আর কোন শিশু বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকবে না। অদ্রিজা কর নাকি ভুল করে বঙ্গবন্ধুর চুল এলোমেলো করে দিয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুর মুখে তিল বসিয়েছে। অথচ বঙ্গবন্ধুর মুখে যে তিল ছিল তা এই ছোট্ট শিশুটির চোখ এড়ায়নি।
প্রসঙ্গত, আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ২৩ জুলাই রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে মামলাটি খারিজ করে দেন। মামলার বাদী বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আওয়ামীলীগ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সাজু মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করে মামলাটি খারিজ করে দেন। পঞ্চম শ্রেণির শিশুর আঁকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে কার্ড প্রকাশের পর আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে মামলা করায় অনেকের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছাড়াও দলীয় লোকজন এবং সাধারণ মানুষের মনে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। চলতি বছরের ৭ জুন ইউএনও গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। বাদীর অভিযোগ, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের পেছনের দিকে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে ছাপিয়েছেন ইউএনও গাজী তারিক সালমন। বুধবার (১৯ জুলাই) এ মামলার শুনানি ছিল। সকালে জামিন না-মঞ্জুর হলেও বিকেলে জামিন পান ইউএনও সালমন।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4215181আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 1এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET