৩০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

[gtranslate]

শিরোনামঃ-

অপারেশন থান্ডারবোল্ট : শুরু থেকে শেষ

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : জুলাই ০৩ ২০১৬, ০৮:৩৫ | 623 বার পঠিত

download_2নয়া আলো ডেস্ক- শ্বাসরুদ্ধকর এক অপারেশন। প্রস্তুত সেনাবাহিনীর চৌকস প্যারা কমান্ডো। সঙ্গে আরো চৌকস সেনা কর্মকর্তারা। বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরাও আছেন সঙ্গে। রাত থেকেই অবস্থান করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। সকাল ৭টা ২৫ মিনিট। ঘটনাস্থলের চারপাশ থেকে অনেক আগেই সরিয়ে দেয়া হয়েছে সাধারণ লোকজনকে। গণমাধ্যমকর্মীরাও অনেক দূরে। হঠাৎ সেনাবাহিনীর কয়েকটি জিপ থেকে নেমে আসলেন প্যারা কমান্ডোর সদস্যরা। সবার হাতেই অত্যাধুনিক স্নাইপার রাইফেল। ঘটনাস্থলের দু’শ গজ দূরের রাস্তার মোড়ের অপারেশন কমান্ডারদের ক্যাম্প। মুহূর্তেই সেখানে এসে দাঁড়ালো একটি সাঁজোয়া যান। পেছনে আরো ৮টি। কমান্ডোরা নেমে এলেন রাস্তায়। লাইনে দাঁড়ালেন। যেন সবকিছু আগে থেকেই ঠিক করা। কমান্ডার কয়েক মিনিটের একটি ব্রিফ করলেন সবাইকে। চিৎকার করে উঠলেন ‘মুভ’। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলের দিকে রাস্তার দুই দিকের ফুটপাথে ক্রলিং করে এগোতে থাকলেন প্যারা কমান্ডোরা। চারদিকে তখন পিন-পতন নীরবতা। একটার পর একটা ব্যাকআপ দল এগিয়ে যাচ্ছে হলি আর্টিজান রেস্তরাঁর দিকে। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে গর্জে উঠলো গুলি আর গ্রেনেডের শব্দ। একনাগাড়ে চলছে। ভেতর থেকে সংকেত এলো সাঁজোয়া যান পাঠানোর। একে একে নয়টি সাঁজোয়া যান। তারপর থেকে আবারো গুলি আর গ্রেনেডের শব্দ। কয়েক মিনিটের মাথায় একে একে বেরিয়ে এলেন কয়েকজন জিম্মি। প্রথমে আসলেন দুজন তরুণী। তাদের মাথায় হাত। দুই তরুণীর পর এক শিশু। তার পেছনেই নীল গেঞ্জি গায়ে এক ব্যক্তি। এরপর আরেক কিশোরী। কালো গেঞ্জি পরিহিত এক যুবক হাত তুলে দৌড়ে আসলেন। তার পেছনে পেছনে আরেক মধ্যবয়সী। তারও হাত ওপরে তোলা। সবার চোখে-মুখেই ভয়াবহ আতঙ্ক। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের নিয়ে গেলো পাশের এক বাসায়। এদিকে পরক্ষণেই আবার শুরু হয় গোলাগুলি। গ্রেনেডের শব্দ। বিকট আওয়াজ। এর একটু পরই ভেতর থেকে বের করে আনা হলো একজনকে, গুলিবিদ্ধ। রক্তাক্ত জামা। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানো হলো তাকে হাসপাতালে। কিছুক্ষণ পরপরই আসছে গুলির আওয়াজ। ভেতর থেকে দ্রুত কল করা হলো ফায়ার সার্ভিসকে। তৈরি থাকা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি স্টার্ট করলেন। কিন্তু না, গাড়ি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছে প্যারা কমান্ডোদের সাঁজোয়া যান। আগুন নেভানোর স্ট্রিংগুইশার হাতে নিয়ে ছুটলেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় বাইরে অপেক্ষা করছে সবাই। কি হচ্ছে ভেতরে? অস্ত্রধারী জঙ্গিদের কি অবস্থা? জিম্মিরা সবাই জীবিত তো? আবার পর পর কয়েকবার বিকট শব্দ। দেয়াল ভাঙ্গার শব্দ। পরে জানা গেলো দেয়াল ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেছে সাঁজোয়া যান। ডাক এলো বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের। র‌্যাবের চৌকস বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত ছিল পাশেই। তারা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে গেলেন। এভাবে কেটে গেলো প্রায় ৪৫ মিনিট। এক পর্যায়ে থেমে এলো গুলির আওয়াজ। বোঝা গেলো অপারেশন শেষ। অপারেশন থান্ডারবোল্ট শেষে মারা গেছে অস্ত্রধারী ছয় জঙ্গি। উদ্ধার করা হয়েছে ১৩ জিম্মিকে। এর আগেই ১৭ বিদেশি নাগরিক ও তিন দেশীয় নাগরিককে হত্যা করেছে জঙ্গিরা।
ফজরের আজানের পর ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান আরো জোরদার করা হয়। আশেপাশের বিল্ডিংয়ের দেয়াল, ছাদ ও ভেতরে অবস্থান নিতে শুরু করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় হঠাৎ কিছু গুলির শব্দ শোনা যায়। পরক্ষণেই খালি গায়ে বুকে রক্ত রয়েছে এমন এক তরুণকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। গণমাধ্যমকর্মীরা তার নাম জানার চেষ্টা করেন। সে নিজেকে ‘শাওন’ বলে পরিচয় দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিক তাকে ওই এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া হয়। তখনও চূড়ান্ত অপারেশনের জন্য সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা এসে পৌঁছাননি। ভোরের আলো ফোটার পর (৬টার কিছু পরে) গুলশানের লেকের পূর্ব পাশ থেকে দেখা যায় আর্টিজান রেস্তরাঁয় ছাদে ৩ জন লোক পায়চারি করছে। এদের একজন সাদা হাফ শাট পরিহিত। মাথায় টাক। অন্য দুজন কালো শার্ট পরা। লেকের পূর্ব পাশে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা। বাইনোকুলারের সাহায্যে তারা ওই রেস্তরাঁর ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করছিলেন। এদের একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ওই ৩ জনের একজন ভারি অস্ত্রধারী, অপর দুজন জিম্মি। তাদের হাত বাঁধা অবস্থায় ছাদে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে সাদা হাফ শার্ট পরিহিত ব্যক্তিটি বিদেশি বলে ধারণা দেন বিজিবি’র কর্তব্যরত এক সদস্য। যিনি বাইনোকুলার দিয়ে রেস্তরাঁর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। প্রায় ১৫ মিনিট ছাদে তাদের পায়চারী লক্ষ্য করা গেছে বলেও জানান ওই সদস্য। বলেন, ছাদের বিভিন্ন পাশে তাদের নেয়া হয়েছে। তাদের হাতে যে অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে এবং দেশি-বিদেশি জিম্মি সেখানে আছেন- এটা দেখানোর জন্য এমন পায়চারী হতে পারে বলেও ধারণা দেন তিনি। অবশ্য সেই অবস্থা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ছাদেই দুই জিম্মির হাতের বাঁধন খুলে দেয়া হয়। পরে তাদের নিচে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা। যৌথবাহিনীর অপরারেশন ‘থান্ডারবোল্ট’ শুরু হয় সাড়ে ৭টার দিকে। গুলশান-বারিধারা লেকসহ টার্গেট সেই রেস্তরাঁর চারদিকে (জলে-স্থলে) সতর্ক অবস্থান নেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, যৌথ বাহিনীর অপারেশনের সময় অস্ত্রধারীরা বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। রেস্তরাঁর প্রবেশ গেটের দিকে অস্ত্র হাতে এগিয়ে আসে। অস্ত্রধারীরা গেটের কাছে পৌঁছার আগেই চতুর্মুখী আক্রমণ শুরু করে কমান্ডোরা। মুহূর্তেই কাবু হয়ে যায় তারা। কয়েক মিনিটের মধ্যে তাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই সময়েই সশস্ত্র বাহিনীর কয়েকটি আর্মাড পারসোনাল ক্যারিয়ার দেয়াল গুঁড়িয়ে দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে আরো প্রায় ১৫ মিনিটের অপারেশন শেষে কয়েকজনকে বের করে আনতে দেখা যায়। এভাবেই কমান্ডো অপারেশনের সফল সমাপ্তি ঘটে। যদিও আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির ঘোষণা আসে দুপুরের পরে।

Please follow and like us:

পাঠক গনন যন্ত্র

  • 4165384আজকের পাঠক সংখ্যা::
  • 7এখন আমাদের সাথে আছেন::

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৮৮০৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET